উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের আবহের মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দীর্ঘদিন ধরে বারাসত সাংগঠনিক জেলার জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পর অবশেষে সেই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। নিজের পদত্যাগপত্র তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির হাতে তুলে দেন কাকলি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। (Kakoli Ghosh Dastidar)
ইস্তফার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট জানান, গত কয়েকদিন ধরে নানা ইস্যু নিয়ে তাঁকে একের পর এক ফোন করা হচ্ছিল। দলের অভ্যন্তরে এমন কিছু কাজকর্ম হচ্ছিল যা তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে খাপ খাচ্ছিল না। তাঁর কথায়, “আমি স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি, আমি সততায় বিশ্বাস করি।” নিজের রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রাক্তন বাম নেতা গুরুদাস দাশগুপ্ত তাঁর আত্মীয় ছিলেন। সেই রাজনৈতিক পরিবেশ থেকেই তিনি শিখেছেন আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করতে। (Kakoli Ghosh Dastidar)
কাকলির বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল দলের ‘পুরনো’ ও ‘নতুন’ নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর ক্ষোভ। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১১ সালের পর যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই আদর্শের জন্য নয়, ব্যক্তিস্বার্থে দলে এসেছেন। তাঁর কথায়, “অনেকে মধু খেতে এসেছে।” শুধু তাই নয়, দলের ভিতরে এমন কিছু নেতা উঠে এসেছেন, যাঁদের আচরণ প্রবীণ কর্মীদের অপমানিত করেছে। কাকলির দাবি, একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েরা চার দশক ধরে রাজনীতি করা বর্ষীয়ান নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক জ্ঞান দিতে শুরু করেছিল, যা অত্যন্ত অসম্মানজনক। (Kakoli Ghosh Dastidar)
সাম্প্রতিক নির্বাচনেও এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের কারণেই দলের এই ভরাডুবি হয়েছে। যদিও সেই সংগঠনের নাম তিনি প্রকাশ্যে বলেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বারাসত সংগঠনের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব চলছিল এবং তারই বহিঃপ্রকাশ এই ইস্তফা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি জানান, তাঁর ফেসবুক পোস্টে এমন কিছু কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসম্মানের পরিবেশ তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেও স্পষ্ট করেন। কিছুদিন আগে বারাসতের সাংসদ কাকলিকে লোকসভায় তৃণমূলের সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বদলে দায়িত্বে আসেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর কাকলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন। এর পরেই কাকলির নিরাপত্তা বাড়ায় কেন্দ্র। এ বার তিনি সরাসরি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। (Kakoli Ghosh Dastidar)
তবে জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেও আপাতত দল ছাড়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি বারাসতের সাংসদ। তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। কিন্তু তাঁর এই পদত্যাগ উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের সংগঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। (Kakoli Ghosh Dastidar)
কলকাতা পুরসভা নিয়ে তৃণমূলে তোলপাড়, কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে ডাকলেন মমতা










1 thought on “‘৪০ বছরের কর্মীদের অপমান করা হয়েছে’, বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পদত্যাগ কাকলির”