কুশল চক্রবর্তী
(FIFA World Cup) ২০২৬ সালে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ‘এল’ গ্রুপ বেশ কঠিন। এই গ্রুপের ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা—সবকটি দেশই ফুটবলে পারদর্শী।
ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ডের পারদর্শীতা মিশ্র। ১৯৬৬ সালে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। এছাড়া ৭ বার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে এবং ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে চতুর্থ স্থানও অর্জন করেছে। আবার তিন বার ফাইনাল পর্বেই পৌঁছতে পারেনি। এবার কোচ টমাস টুতেলের প্রশিক্ষণে এবং হ্যারি কেনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল মাঠে নামবে নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে।
তবু সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, মার্কাস রাশফোর্ড, এবারেচি এজে, মরগান রজার্স, রিস জেমস ও জর্ডান পিকফোর্ডের মতো তারকাদের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে।
ক্রোয়েশিয়া: মাত্র ১৯৯১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯২ সালে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার সদস্য হয় ক্রোয়েশিয়া। এর মধ্যেই তারা ৬ বার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে। মাত্র ৩৮ লক্ষ লোকের দেশ হয়েও ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে নজর কেড়েছে এই দল। ২০১৮ সালে রানার্স-আপ হওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৮ ও ২০০২ সালে তৃতীয় স্থানও অর্জন করেছিল তারা।
(FIFA World Cup) এবারও ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপে কিছু করে দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। ইউরোপের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে সহজেই গ্রুপ সেরা হয়ে তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ৪০ বছর বয়সী লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে দলটি। অধিনায়ক মদ্রিচের এটি পঞ্চম বিশ্বকাপ।
এছাড়া রক্ষণে নজর থাকবে জোসিপ স্ট্যানিসিচ ও যোসিপ শুতালোর দিকে। মধ্যমাঠে মদ্রিচকে সহায়তা করবেন পিটার সুসিচ, মারিও মারিও পাশালিচ ও মাতেও কোভাচিচ। আর গোল করার দায়িত্বে থাকবেন ইভান পেরিশিচ, আন্দ্রেই ক্রামারিচ ও ইগর মাতানোভিচ। কোচ জ্লাতকো দালিচের প্রশিক্ষণে খেলা ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে প্রতিপক্ষদের বিশেষভাবে ভাবতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে মেসি-রোনাল্দো? দেখুন কোন অঙ্কে মুখোমুখি হতে পারেন দুই তারকা
ঘানা: (FIFA World Cup) ২০২৬ সালে পঞ্চমবারের জন্য আফ্রিকার দেশ ঘানা বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে নামবে। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা শুরু করলেও ২০১৮ সালে তারা যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ২০১০ সালে তারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। তবে অন্য বিশ্বকাপগুলোতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ৭৪ নম্বরে থাকা দলটি এবার বিশ্বকাপে নামবে পর্তুগিজ কোচ কার্লোস কুইরোজের প্রশিক্ষণে।
রক্ষণভাগে জোনাস আদজেতি, আলেকজান্ডার জিকু ও গিডিয়ন মেনসা, মধ্যমাঠে থমাস পার্টে, এলিশা ওসু ও অগাস্টিন বোয়াকে এবং আক্রমণভাগে আন্তোয়ান সেমেনিয়ো, কামালদিন সুলেমানা, ইনাকি উইলিয়ামস ও ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্তের ওপর নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। আফ্রিকার এই ঘানা দলের খেলায় এমন এক প্রাণবন্ত ভাব রয়েছে যে দর্শকরা তাদের কাছ থেকে চমকপ্রদ ফলাফলের প্রত্যাশা নিয়েই খেলা দেখতে বসবেন।
পানামা: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ পানামা এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা ৪৫ লক্ষ মানুষের দেশটি সেবার খুব ভালো কিছু করতে পারেনি। তবে এবার আবারও তারা মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আদালবের্তো কারাসকুইলা ও আনিবাল গোদয়। রক্ষণে আছেন এরিক ডেভিস ও ফিদেল এসকোবার। আক্রমণভাগে রয়েছেন খাদের বারসেনাস ও আলবার্তো কুইনতেরোর মতো নজরকাড়া ফুটবলার। প্রতি ম্যাচেই লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে পানামা।
এবারের বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) এই গ্রুপের খেলা শুরু হবে ১৮ জুন, ২০২৬ থেকে।
আরও পড়ুন: কেন হলুদ জার্সি পরে ব্রাজিল? নেপথ্যে লুকিয়ে ট্র্যাজেডি, জানুন চমকপ্রদ ইতিহাস











