গরম ভাতের উপর এক চামচ ঘি, আমাদের ভারতীয়দের ঘরে বহু প্রজন্মেরই একটি পুরনো অভ্যাস। সে বাঙালিদের গরম ভাতে ঘি হোক বা উত্তর ভারতের ডাল-ভাত বা পাঞ্জাবের পরোটা বা রুটির ওপর দেশি ঘি সর্বত্রই এই চল রয়েছে। তবে জানেন কি শুধু স্বাদ নয়, এই এক চামচ ঘি ব্যবহারের পিছনে কিছু পুষ্টিগত যুক্তিও রয়েছে বলে জানাচ্ছে বিজ্ঞান। তাহলে কি এই অভ্যাস নিরাপদ? ঘি খেলে শরীরে কী কী প্রভাব পড়ে?
Healthy Food: রক্তে শর্করা বাড়ার গতি কমাতে পারে
সাদা ভাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকায় তা খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি থাকলে ফ্যাট পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার গতি কিছুটা কমায়। ফলে কার্বোহাইড্রেট ধীরে হজম হয়ে গ্লুকোজও তুলনামূলক ধীরে রক্তে পৌঁছতে পারে।একটি গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ১০৩ জনকে তিন মাস ঘি দিয়ে রান্না করা সাদা ভাত খাওয়ানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৮৬.৪১ শতাংশের HbA1c কমেছিল। তবে এর মানেই ঘি ডায়াবেটিসের ওষুধ, এমনটা নয়।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যেও উপকারী
ঘি তে অল্প পরিমাণে শর্ট-চেন ও মিডিয়াম-চেন ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এর মধ্যে বিউটিরেট রয়েছে, যা বৃহদান্ত্রের কোষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। তবে এক চামচ ঘিতে বুটিরেটের পরিমাণ খুব কম, তাই এটিকে কোনও চিকিৎসার বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।
সবজির পুষ্টি শোষণে সাহায্যকারী
ঘি-এর মতো ফ্যাটের সঙ্গে খেলে শরীর ভিটামিন A, D, E ও K এবং বিটা-ক্যারোটিনের মতো কিছু ফ্যাট-সলিউবল পুষ্টি ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। তাই ভাতের সঙ্গে ডাল, গাজর, পালংশাক, কুমড়ো বা অন্যান্য সবজি এবং অল্প ঘি খেলে খাবারের পুষ্টিগুণ সরাসরি শরীর শোষণ করতে পারে। (Healthy Food)
উপমা খেয়ে একঘেয়ে হয়ে গেছে? স্বাদ বদলাতে যোগ করুন এই পদ
তবে বেশি ঘি একদম নয়
ঘি-তে ফ্যাট এবং ক্যালোরি দুটিই বেশি। এক চা-চামচ ঘি তে প্রায় ৪৫ ক্যালোরি থাকে। এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও রয়েছে। তাই অতিরিক্ত ঘি ওজন ও কোলেস্টেরলের সমস্যা বাড়াতে পারে। সাধারণভাবে সুষম খাবারের সঙ্গে ১–২ চা-চামচ ঘি যথেষ্ট। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস, বেশি কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
অর্থাৎ, গরম ভাতে অল্প ঘি খাওয়া একেবারে অস্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু ঘি কোনও ‘সুপারফুড’ বা রোগের ওষুধও নয়। পরিমিত ঘি, সঙ্গে ভাত-ডাল-সবজি মিলিয়ে খেলে তা অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী।













1 thought on “গরম ভাতে এক চামচ ঘি নাহলে চলে না? এই অভ্যাস আদৌ ভালো তো?”