আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অন্ত্র। হজমশক্তি ঠিক রাখা থেকে শুরু করে শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখা সব ক্ষেত্রেই এই অন্ত্রের ভূমিকা রয়েছে। তবে জানেন কি পাচনক্রিয়া ভালো রাখতে খুব দামি কোনও খাবার বা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবারেই থাকা কিছু প্রিবায়োটিক খাবার হতে পারে সহজ সমাধান। (Healthy Food)
প্রিবায়োটিক হলো এক ধরনের ফাইবার, যা শরীর পুরোপুরি হজম করতে পারে না। এই ফাইবার অন্ত্রে পৌঁছে সেখানে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে।গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, নিয়মিত প্রিবায়োটিক খাবার খেলে পেটের সমস্যা কম হয় ও ভালো হজমশক্তি বজায় রাখতেও সাহায্য করে। আপনিও যদি অন্ত্রের যত্ন নিতে চান তাহলে প্রতিদিনের খবরে এই কয়েকটি জিনিস অবশ্যই রাখুন।
১. রসুন: এতে থাকা ‘ফ্রুকট্যান’ নামের প্রিবায়োটিক ফাইবার উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। তরকারি, ডাল, স্যুপে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
২. পেঁয়াজ: প্রিবায়োটিক ফাইবার সমৃদ্ধ। কাঁচা স্যালাডে কিংবা রান্না করে খাওয়া যায়।
৩. লিক: পেঁয়াজ ও রসুনের পরিবারের এই সবজিতেও রয়েছে প্রিবায়োটিক উপাদান। স্যুপ, স্যালাড বা রান্নায় ব্যবহার করা যায়।
৪. অ্যাসপারাগাস: ফাইবার সমৃদ্ধ এই সবজি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার জোগায়। রোস্ট, স্টিম বা স্যালাডে খেতে পারেন।
৫. জেরুজালেম আর্টিচোক: এতে প্রচুর ইনুলিন রয়েছে, যা গাটের ভালো ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী। (Healthy Food)
ডায়াবিটিসে শুধু চিনিতে কাটছাঁট নয়, নজর দিন নিজের প্লেটের দিকেও
৬. চিকোরি রুট: ইনুলিনের ভালো উৎস। বিভিন্ন খাবার ও পানীয়তেও এটি ফাইবারের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৭. কাঁচা বা সবুজ কলা: পাকা কলার তুলনায় এতে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ বেশি থাকে, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করতে পারে।
৮. ওটস: প্রতিদিনের ডায়েটে ফাইবার বাড়ানোর সহজ উপায়। সকালের জলখাবারে ওটস রাখা যেতে পারে।
৯. আপেল: এতে থাকা ফাইবার উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সমর্থন করে। খোসা-সহ আপেল খেলে বেশি ফাইবার পাওয়া যায়।
১০. ডাল: ফাইবারে ভরপুর ডালও উপকারী গাট ব্যাকটেরিয়ার খাবার জোগাতে সাহায্য করে। (Healthy Food)
তবে সবার শরীরের সহনশীলতা এক নয়। পেটের কোনও গুরতর সমস্যা থাকলে বা খাবার নিয়ে বিশেষ অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।












