স্ত্রীর সঙ্গে সামান্য সাংসারিক ঝামেলা নিয়ে শুরু হয়েছিল কথা কাটাকাটি। কিন্তু সেই ঝামেলাই যে শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, তা হয়তো কেউ ভাবেননি। দিল্লিতে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের হাতে মারধরে মৃত্যু হলো ৩১ বছর বয়সি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিনয় গুপ্তের। ঘটনায় তাঁর স্ত্রী-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত বিনয় নয়ডায় Adobe-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেখার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই যমজ সন্তানও রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্যে সমস্যা দেখা দেয়। (Delhi Tragedy)
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি সন্তানকে ওষুধ খাওয়ানো নিয়ে বিনয় ও রেখার মধ্যে অশান্তি হয়। কথা কাটাকাটির পর রেখা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। মিনিট দশেক পরই তিনি নিজের পরিবারের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসেন। অভিযোগ, রেখার দুই ভাই, এক আত্মীয় এবং আরও কয়েকজন মিলে বাড়ির ভিতরেই বিনয়কে মারধর শুরু করেন।
বিনয়ের পরিবারের দাবি, তাঁকে ঘুষি-লাথি মারার পাশাপাশি গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। বুকেও বারবার আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বাবা-মা ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলেও হামলাকারীরা থামেননি।এদিকে ঘটনার আগে বাড়ির CCTV রেখাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে বিনয়ের পরিবার। পরে পাওয়া ফুটেজে রেখা ও তাঁর এক আত্মীয়কে বাড়ির ভিতরে এবং কয়েকজনকে গাড়িতে দেখা যায় বলে দাবি পরিবারের।
ভারতের ডিফেন্স ফোর্সের জন্য মাহিন্দ্রার নতুন গাড়ি ‘আর্মাডো’, কী কী ফিচার রয়েছে এটিতে?
মারধরের পর গুরুতর অবস্থায় বিনয়কে এক প্রতিবেশী ঘর থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। তিনি তখন নিজে দাঁড়াতেও পারছিলেন না। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। (Delhi Tragedy)
বিনয়ের পরিবারের আরও দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। এমনকী, রেখার এক ভাই আগেও বিনয়কে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। আর এবার শেষমেশ তাঁকে মেরেই ফেলা হলো।
ঘটনায় ইতিমধ্যে বিনয়ের স্ত্রী রেখা, তাঁর দুই ভাই-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ও ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












