এবার ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলো। কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর শুধুমাত্র প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করে তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য দলটি এখন ‘নতুন মুসলিম লিগে’ পরিণত হয়েছে।
বুধবার, ১৯ অগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দলের সমস্ত অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনেই এই নিয়ম চালু করার কথা জানানো হয়েছে। (Nitin Nabin on Vande Mataram)
এই সিদ্ধান্তের পরই বৃহস্পতিবার, ২০ অগস্ট কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতি এই আচরণ শুধু জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা নয়, দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা হাজার হাজার শহিদের প্রতিও অসম্মান। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা এই গানকে মনে ধারণ করে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে এ ভাবে অগ্রাহ্য করা যায় না।
বিজেপি সভাপতির আরও অভিযোগ, এতদিন ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক ছিল, ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটাই এখন দলের আনুষ্ঠানিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের মঞ্চে শুধু প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ। এর পরেই আরও আক্রমণাত্মক সুরে নবীন বলেন, ‘‘কংগ্রেস এখন নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার জন্য জাতীয় স্বার্থ ও দেশের আত্মসম্মানকে বারবার বিসর্জন দিচ্ছে কংগ্রেস।
এখানেই থামেননি বিজেপি সভাপতি। গত ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কংগ্রেস দফতরে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। তাঁর ইঙ্গিত, কয়েক দিন আগে একজন ব্যক্তির আচরণের মধ্যে যে ‘অসম্মান’ দেখা গিয়েছিল, সেটিকে তখন কংগ্রেস ‘কাকতালীয় ঘটনা’ বলে এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই একই বিষয় দলীয় নীতির অংশ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিধানসভাতেও ‘বিজয় এফেক্ট’? টিভি-ইউটিউবে হু হু করে বাড়ছে দর্শকসংখ্যা
বিজেপির অভিযোগ, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষার জন্য কংগ্রেসের বক্তব্য নয়। বরং নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতকে ঘিরে কংগ্রেসের অবস্থানকে তাই দেশের আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস হিসেবে তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির। (Nitin Nabin on Vande Mataram)
সব মিলিয়ে, ‘বন্দে মাতরম’-এর কোন অংশ দলীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া হবে, তা নিয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। জাতীয় সঙ্গীতকে ঘিরে পুরনো বিতর্ক এবার ফের ভোটের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।












