৭৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়া ম্যাচ শেষ হয়েছে ৪-১ জয়ে। (East Bengal FC) শুধু AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করাই নয়, আল আরবির বিরুদ্ধে এই প্রত্যাবর্তন যেন নতুন মরশুমের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলকে দিয়ে গেল বড় বার্তা—‘আমরাও পারি।’ এখন সেই আত্মবিশ্বাসই কাজে লাগিয়ে ডুরান্ড কাপের মঞ্চে নামতে চাইছে লাল-হলুদ শিবির।
ভারতীয়দের উপর আস্থার ফল

শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার মনে করছেন, এই সাফল্যের অন্যতম কারণ ভারতীয় ফুটবলারদের উপর আস্থা। পিছিয়ে পড়েও গোটা দল একজোট হয়ে লড়াই করেছে। জয় গুপ্তার সমতা ফেরানো গোল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সময়ে পরিবর্ত ফুটবলারদের কার্যকর ভূমিকা—ম্যাচের ভাগ্য গড়েছেন একাধিক ভারতীয় ফুটবলার। অর্থাৎ শুধু বিদেশি নির্ভরতা নয়, দলগত শক্তিই হয়ে উঠেছে (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গলের বড় সম্পদ।
হাবাসের ‘অদৃশ্য’ দর্শন

ম্যাচের আগে কৌশলগত দ্বৈরথের কথা বলেছিলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। মাঠে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই পরিকল্পনার প্রয়োগই দেখা গিয়েছে। প্রাক-মরশুম প্রস্তুতি সম্পূর্ণ না হওয়া, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে সংগঠিত এবং তীব্রতা ধরে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। জয় শেষে হাবাসের কথাতেও সেই আত্মবিশ্বাস—মরশুমের শুরুতেই এই জয় দলের মানসিক শক্তি বাড়াবে। সাংবাদিক সম্মেলনে হাবাস বলেন, ‘দারুণ জয়। আমরা ভালো খেলেছি। প্রাক মরশুম না হওয়ায় চিন্তিত ছিলাম। তবে আমি তীব্রতা ধরে রাখতে বলেছিলাম। সংগঠিত থাকার পরামর্শ দিই। আমরা প্রতিনিয়ত গোলের চেষ্টা করি।’
East Bengal FC: পিছিয়ে পড়েও ৪-১ জয়

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ০-১ পিছিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। হার্দিক ভাটের ফাউলের জেরে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ইউওয়ালা আল আরবিকে এগিয়ে দেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র এক মিনিট আগে মহম্মদ রশিদের ফ্রিকিক থেকে জয় গুপ্তার হেডে সমতা ফেরে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ১১৮ মিনিটে রশিদের দুরন্ত ভলি, ১২০ মিনিটে পরিবর্ত ডেভিড এবং অতিরিক্ত সময়ের সংযুক্ত সময়ে রোহিত দানুর গোলে ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় লাল-হলুদ। এই জয়ের ফলে AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর মূলপর্ব নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল।
East Bengal FC: নেতা রশিদ, অনুপ্রেরণাও রশিদ

আর্মব্যান্ড হাতে থাকুক বা না থাকুক, মহম্মদ রশিদ যেন দলের অদৃশ্য নেতা। জয় গুপ্তার গোলের বল সাজানো থেকে ১১৮ মিনিটে তাঁর দুরন্ত ভলি—আবারও বড় ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরেছেন প্যালেস্টাইন বংশোদ্ভূত এই আমেরিকান ফুটবলার। নিজের গোল ও সাফল্য প্রয়াত বাবাকে উৎসর্গ করেছেন তিনি। অধিনায়কত্ব নিয়ে তাঁর বার্তা, “কে অধিনায়ক সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সবাই একই তীব্রতায় খেলেছে। সবাই ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। রেজাল্ট তারই আশীর্বাদ।”
‘ভারতীয় ফুটবলের সাফল্য’
সাংবাদিক সম্মেলনে হাবাসের বার্তাও তাৎপর্যপূর্ণ। হাসতে হাসতে বলেন, ‘সবাই এত হতাশ কেন? কারোর মুখে হাসি নেই কেন? আমাদের জয়ে আপনারা খুশি নন? এটা ভারতীয় ফুটবলের সাফল্য’—জয়ের পর সাংবাদিকদেরও সেই সাফল্য উদযাপনের আহ্বান জানান তিনি। অর্থাৎ এই জয় শুধু (East Bengal FC) ইস্টবেঙ্গলের নয়, ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের আত্মবিশ্বাসও বাড়াচ্ছে।
East Bengal FC: এবার লক্ষ্য ডুরান্ড
AFC-র প্রাথমিকপর্বের বাধা পেরিয়ে এবার সামনে ডুরান্ড কাপ। ISL-এর সাফল্যের রেশ ধরে রাখতে হলে সেই প্রতিযোগিতাতেও শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। আল আরবির বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি জয় নয়—হাবাসের ইস্টবেঙ্গলের নতুন মরশুমের মানসিক ভিত শক্ত করার প্রথম বড় পরীক্ষা।
ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য থেকে ন্যাশানাল গেমস—বাংলার খেলাধুলা নিয়ে কী বার্তা দিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ?












1 thought on “আল আরবি বধের পর বদলে গেল ইস্টবেঙ্গলের মানসিকতা, হাবাসের সামনে এবার ডুরান্ড চ্যালেঞ্জ”