কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে রবিবারের ম্যাচ শুধু আর একটা লিগ ম্যাচ নয়—এটাই কার্যত মরশুম বাঁচানোর লড়াই। আর সেই ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এল ব্যাটিং বিভাগে। চলতি আইপিএলে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটার (Angkrish Raghuvanshi) অঙ্গকৃষ্ণ রঘুবংশী চোটের জন্য এবারের মতো ছিটকে গেলেন টুর্নামেন্ট থেকে। ফলে দিল্লি ক্যাপিট্যালসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নতুন করে কম্বিনেশন সাজাতে হচ্ছে নাইট শিবিরকে।
(Angkrish Raghuvanshi) ১৩ ম্যাচে ৪২২ রান—সংখ্যাটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, কেকেআরের এবারের ব্যাটিং মেরুদণ্ডের গল্প। একের পর এক চাপে পড়া পরিস্থিতিতে দলের হয়ে রান করেছেন অঙ্গকৃষ্ণ। বিশেষ করে শেষ সাত ম্যাচের মধ্যে ছয়টি জিতে কেকেআর যে এখনও প্লে-অফের অঙ্কে টিকে রয়েছে, সেখানে তরুণ এই ব্যাটারের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।
শুক্রবার বিকেলে কেকেআর যখন ইডেন গার্ডেন্সে অনুশীলনে পৌঁছয়, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় উদ্বেগের কারণ। টিম বাস থেকে নামার সময় দেখা যায়, বাঁহাত স্লিংয়ে ঝুলিয়ে হাঁটছেন অঙ্গকৃষ্ণ। পরে কেকেআর শিবির জানিয়ে দেয়, (Angkrish Raghuvanshi) তিনি আর এবারের আইপিএলে ফিরতে পারবেন না।
চোটের ঘটনাটাও নাটকীয়। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে তিলক বর্মার একটি উঁচু ক্যাচ ধরতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। বলের নিচে ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। ঠিক সেই সময় উইকেটের পিছন থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ নিতে গিয়ে বরুণের সঙ্গে ধাক্কা খান অঙ্গকৃষ্ণ। সংঘর্ষে মাথা ও আঙুলে চোট লাগে। ক্যাচ হাতছাড়া হয়, আর মাঠও ছাড়তে হয় অঙ্গকৃষ্ণকে (Angkrish Raghuvanshi)। পরে কনকাশন সাব হিসেবে নামেন তেজস্বী দাহিয়া।
এখন প্রশ্ন—অঙ্গকৃষ্ণ (Angkrish Raghuvanshi) ছাড়া কেকেআর কতটা বদলে যাবে?
প্রথম ধাক্কা ব্যাটিং অর্ডারে। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার—যেখানে প্রয়োজন হয়েছে, সেখানেই দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। দ্রুত রান তোলা এবং ইনিংস গড়ার মধ্যে ভারসাম্য ছিল তাঁর (Angkrish Raghuvanshi) খেলায়। দিল্লির বিরুদ্ধে তাই তেজস্বী দাহিয়া সুযোগ পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। শুক্রবার অনুশীলনে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ উইকেটকিপিং করিয়েছেন ফিল্ডিং কোচ দিশান্ত যাজ্ঞিক।
তবে শুধু একজন ক্রিকেটারের অভাব নয়, ম্যাচের গুরুত্ব আরও বড়। ১৩ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলের ছয়ে রয়েছে কেকেআর। অন্যদিকে দিল্লি ক্যাপিট্যালস ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে। ফলে এই ম্যাচ কার্যত নকআউটের আবহ তৈরি করেছে।
অঙ্ক বলছে, রবিবার কেকেআর জিতলে ১৫ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে। অন্য দলগুলোর ফলের উপর নির্ভর করলেও চার নম্বর জায়গা এবং প্লে-অফের দরজা খোলা থাকবে। কিন্তু হার মানেই প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারে সমস্ত সম্ভাবনা। দিল্লির ক্ষেত্রেও সমীকরণ একইরকম কঠিন। ফলে ইডেনে চাপ, আবেগ আর উত্তেজনা—সবকিছুই থাকবে একসঙ্গে।
এবার কি সত্যিই আইপিএলে আসছে বিহার? ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা নিয়ে তৈরি শিল্পপতি
ম্যাচের বিরতিতে অন্য আকর্ষণ—ইডেনের ইতিহাসের লেজার ক্যানভাস
রবিবারের সন্ধ্যা শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ম্যাচের বিরতিতে দর্শকদের জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে সিএবি। ইডেন গার্ডেন্সের ইতিহাসকে লেজার শোয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে—যেখানে থাকবে বাংলা ও ভারতীয় ক্রিকেটের একাধিক সোনালি অধ্যায়।
১৯৮৭ সালে প্রথমবার বাংলার মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন—অ্যালান বর্ডারের অস্ট্রেলিয়ার ট্রফি জয় এখনও ক্রিকেট ইতিহাসের অংশ। তারপর ১৯৮৯ সালে সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতে বাংলা। সেই সময় থেকেই উঠে আসছিলেন বেহালার এক তরুণ—সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ইডেনের ইতিহাসে আরেকটি বিশাল নাম জগমোহন ডালমিয়া। ভারতীয় ক্রিকেটকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার পিছনে তাঁর অবদান এখনও আলোচনার বিষয়। সম্প্রচার অধিকার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসন—সব জায়গাতেই তাঁর প্রভাব ছিল গভীর। তারপর আসে সেই ২০০১। স্টিভ ওয়র অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়ে দেওয়া। ভিভিএস লক্ষ্মণ–রাহুল দ্রাবিড়ের অবিশ্বাস্য জুটি, হরভজন সিংয়ের হ্যাটট্রিক—ইডেনকে ক্রিকেটের এক ঐতিহাসিক মঞ্চে পরিণত করেছিল। আর আইপিএলের যুগে—২০১২, ২০১৪ ও ২০২৪। তিনবার চ্যাম্পিয়ন কেকেআর। শাহরুখ খান ও গৌতম গম্ভীরের যুগলবন্দিতে তৈরি হয়েছে শহরের ক্রিকেট সংস্কৃতির নতুন পরিচয়।
রবিবার তাই শুধু কেকেআরের বাঁচা-মরার ম্যাচ নয়। একদিকে প্লে-অফের লড়াই, অন্যদিকে ইডেনের ইতিহাসের আলোকময় উদযাপন। তবে সব আলো ছাপিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে অঙ্গকৃষ্ণকে ছাড়া কি শেষ ল্যাপেও গতি ধরে রাখতে পারবে নাইটরা?
শেষ ম্যাচে ধাক্কা, বড় শাস্তি পেল গোটা CSK দল











