নদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে একাধিক সমসাময়িক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। প্রশাসনিক কাজের গতি, পুর প্রশাসনের সংকট, বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দুর্নীতির অভিযোগ— সবকিছু নিয়েই সরাসরি অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের গ্রেফতার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মন্ত্রী (Agnimitra Paul) বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। তাঁর কথায়, দুর্নীতির পরিমাণ এতটাই বিস্তৃত যে তার পূর্ণ হিসাব বের করতেই প্রশাসনকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি হোর্ডিংয়ে বাংলা বানান ভুল নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। অগ্নিমিত্রা জানান, মূল বার্তা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই— মহিলারা কীভাবে চলবেন, কখন বেরোবেন বা কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদেরই হওয়া উচিত। সরকারের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট হোর্ডিং সরকারি নয় এবং বাংলা ভাষা ও বানানের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া দরকার। তাঁর বক্তব্য, একটি শব্দের ভুল ব্যবহারে অর্থ বদলে যেতে পারে, তাই সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
পুরপ্রধান বা জনপ্রতিনিধিদের দলবদল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয়। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সিদ্ধান্ত নেবেন, দিল্লিতে যারা আছেন তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’ (Agnimitra Paul) তিনি নিজেকে দলের একজন সামান্য কার্যকর্তা হিসেবেই উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জানান, দলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার ভাবে বলে দিয়েছিলেন পরবর্তী দু’মাসে তৃণমূল কিংবা অন্য দল থেকে কোনও লোককে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
বুধেই শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে একাধিক পুরসভায় পদত্যাগ এবং প্রশাসনিক শূন্যতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন, বর্ষার ঠিক আগে তাঁদের এভাবে পদ ছেড়ে দেওয়া প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের অভাবকেই সামনে আনে। ‘১৫ দিন নেই বর্ষাকাল আসতে এই সময়ে এইকরম ভাবে পদ ছেড়ে দেওয়া, অফিসে না আসা এটাই দেখায় যে আপনারা কতটা স্বার্থপর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।’ তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলর বা পুরপ্রধান না থাকলেও প্রশাসক নিয়োগ করে পরিষেবা চালু রাখা হবে এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধা কমানোর চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী (Agnimitra Paul) আরও জানান, ১ জুন তিনি নিজে উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন এবং বর্ষায় জল জমার সম্ভাবনাযুক্ত ‘ব্ল্যাক স্পট’ এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। তাঁর দাবি, মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। (Agnimitra Paul) তাঁর বক্তব্য, ‘১৫ বছর আমরা যখন বিরোধী ছিলাম, আমাদের কোনদিন ডাকা হয়নি কোনো প্রশাসনিক বৈঠক তো দূরের কথা কোনো উৎসবে ডাকা হয়নি।’ অতীতে বিরোধী হিসেবে এমন সুযোগ পাওয়া যেত না, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন উন্নয়নের কাজে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, যেখানে পুর প্রশাসনে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেখানে বিধায়কদের মাধ্যমেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
প্রশান্ত বর্মনকে ঘিরে মন্তব্য করতে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে পায়নি অথচ বর্তমান প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দুর্বৃত্তদের আশ্রয় দিয়েছেন। কr ভাবে প্রশান্ত বর্মন চাকরি পেয়েছিলেন সেই বিষয়ে তদন্ত হবে। শেখ শাহাজাহান, জাহাঙ্গfর এদের মাথার উপর আশীর্বাদের হাত রেখে ১৫ বছর তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।”
৪২ জন বর, নেই কনে! গণবিয়ের নামে কোটি টাকার প্রতারণা মধ্যপ্রদেশের
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, “আগের সরকারের আমলে ‘জিরো এফআইয়ার’ লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এই সরকারে জিরো এফআইয়ার করতে হবে। বলতে পারবেন না যে এটা আমার থানার নয় ওটা ওই থানার। প্রথমে অভিযোগ নিতে হবে, পরে তদন্ত হবে।”
সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও সরব হন মন্ত্রী। (Agnimitra Paul) তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সীমান্তে পর্যাপ্ত কাঁটাতারের কাজ এগোয়নি, যার ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিরা তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক ছিল তাই তারা অবৈধভাবে ঢুকতে পেরেছে। বর্তমানে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে জমি হস্তান্তর এবং পরিকাঠামোগত কাজ এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।











