কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন রাস্তা। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রেললাইনের উপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন নিত্যযাত্রী ও স্কুল পড়ুয়ারা। এই ছবি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মল্লিকপুর স্টেশন সংলগ্ন হরিহরপুর পঞ্চায়েত এলাকার। রেললাইন দিয়ে চলাচলের সময়ে যেকোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দিন কয়েক আগেও ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গিয়েছে এক যুবতির (Waterlogged in Baruipur)।
বেহাল রাস্তায়। কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসার উপায় নেই। মল্লিকপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ দিক থেকে বেলিয়াডাঙ্গা ট্রান্সফরমার পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা। কয়েক মাস ধরে বৃষ্টির জল জমেই রয়েছে। রাস্তার দু’পাশে গজিয়ে উঠেছে জঙ্গল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি নালাগুলি নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ার কারণেই বৃষ্টির জল দ্রুত বেরোতে পারছে না। জমা জলে পোকামাকড় ঘুরে বেড়াচ্ছে (Waterlogged in Baruipur)।
Waterlogged in Baruipur: কী বলছেন স্থানীয়রা?
এক নিত্যযাত্রীর অভিযোগ, “রাস্তায় যেভাবে জল জমে থাকছে, তাতে রেললাইন দিয়ে হাঁটা ছাড়া কোনও গতি নেই। তবে যখন-তখন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” এক স্কুল ছাত্রের অভিযোগ, “রাস্তায় জল থাকার জন্য রেললাইনের উপর দিয়ে হেঁটে যাই। ভয় থাকে তবুও যেতে হয়। কিছু করার নেই।”
আরও এক নিত্যযাত্রীর বক্তব্য, “প্রতি বর্ষায় এইখানে জল জমে। প্রশাসন দেখছে, জানছে, কিন্তু কোনও সমস্যার সমাধানই হচ্ছে না।”
কবে মিটবে সমস্যা?
বেলিয়াডাঙ্গা, নতুনপাড়া, সুলতানপুর, পুরন্দরপুর-সহ একাধিক এলাকার মানুষ এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। মল্লিকপুর গার্লস হাই স্কুল, বয়েজ স্কুল, প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়ারাও প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে কোথাও কোথাও বাড়ির ভিতরেও জল ঢুকে পড়েছে। সন্ধ্যার পর কার্যত ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার পঞ্চায়েতকে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে রেললাইনই এখন যাতায়াতই ভরসা। বিপদ জানেন, তবুও বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই রেললাইন ধরে স্টেশনে যেতে হচ্ছে বলে দাবি বাসিন্দাদের।
এক বাসিন্দার অভিযোগ, বেলিয়াডাঙ্গা থেকে নতুনপাড়া মন্দির পর্যন্ত পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্প পথশ্রী প্রকল্পের ঢালাই রাস্তা তৈরির পোস্টার দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি। কবে বদলাবে পরিস্থিতি? সেই আশায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা।












