রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

স্বাধীনতার আগে থেকে জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ, কীভাবে তৈরি হলো আজকের তিরঙ্গা?

Published on: August 15, 2026
Indian National Flag Evaluation_1
---Advertisement---

আজ ১৫ অগস্ট। দেশের সর্বত্র উড়ছে গেরুয়া, সাদা, সবুজের মিলনে তৈরি আমাদের গর্বের তিরঙ্গা। জানেন আজকের এই জাতীয় পতাকা একবারে আসেনি (Indian National Flag Evaluation)। একাধিক বদলের পর চূড়ান্ত হয়েছে। স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কয়েক দশকে বদলেছে তার নকশা ও প্রতীকও। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই স্বাধীনতার ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে গণপরিষদ বর্তমান জাতীয় পতাকার নকশা আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহণ করে। তাই সেই দিনটির স্মরণেই পালিত হয় জাতীয় পতাকা দিবস।

Indian National Flag Evaluation: কীভাবে আজকের জাতীয় পতাকা এল?

তিরঙ্গার বর্তমান নকশার মূল ভাবনা এসেছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়ার কাছ থেকে। গেরুয়া, সাদা ও সবুজ—তিনটি সমান অনুভূমিক অংশের মাঝখানে রয়েছে গাঢ় নীল রঙের অশোকচক্র। ২৪টি কাঁটাযুক্ত এই চক্রই আজকের জাতীয় পতাকার অন্যতম প্রধান পরিচয়। তবে এই ভাবনার শুরুটা কীভাবে হলো? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই প্রতিবেদনে।

একাধিক বদলের পর আজকের এই রূপ ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেই জড়িয়ে। ১৯০৪ সালে সিস্টার নিবেদিতা একটি পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন। হলুদ ও লাল রঙের সেই পতাকায় ছিল বজ্র এবং সাদা পদ্মের প্রতীক। (Indian National Flag Evaluation)

১৯০৬ সালে স্বদেশি আন্দোলনের সময় কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে সচীন্দ্রপ্রসাদ বসু ও হেমচন্দ্র কানুনগোর তৈরি একটি পতাকা তোলা হয়। তাতে ছিল আটটি পদ্ম, ‘বন্দে মাতরম্’ লেখা এবং সূর্য ও অর্ধচন্দ্রের প্রতীক।

১৯০৭ সালে ম্যাডাম ভিকাজি কামা জার্মানির স্টুটগার্টে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। বিদেশের মাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনের এটি ছিল প্রথম পরিচিত ঘটনা।

1000444425

১৯১৭ সালে অ্যানি বেসান্ত ও বাল গঙ্গাধর তিলকের হোম রুল আন্দোলনের পতাকায় ছিল লাল-সবুজ ডোরা, ইউনিয়ন জ্যাক, সাতটি তারা এবং অর্ধচন্দ্র-তারা।

তবে বর্তমান তিরঙ্গার আসল ভিত্তি তৈরি হয় ১৯২১ সালে। বিজয়ওয়াড়ায় কংগ্রেসের অধিবেশনে পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া মহাত্মা গান্ধীর কাছে একটি পতাকার নকশা দেন। গান্ধী তাতে সাদা রঙ এবং চরকা যোগ করার পরামর্শ দেন।

১৯৩১ সালে কংগ্রেস গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের পতাকা, যার মাঝখানে ছিল চরকা সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। সেটিই পরবর্তী জাতীয় পতাকার ভিত্তি হয়ে ওঠে।স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা

১৯৪৭ সালের জুনে গণপরিষদ জাতীয় পতাকার নকশা চূড়ান্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। কমিটি ১৯৩১ সালের তিরঙ্গাকেই চূড়ান্ত রাখার পক্ষে মত দেয়, তবে চরকার বদলে অশোকচক্র বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। শেষমেশ ২২ জুলাই গণপরিষদ বর্তমান জাতীয় পতাকাটির নকশা গ্রহণ করা হয়। (Indian National Flag Evaluation)

অশোকচক্র নেওয়া হয়েছে সারনাথের অশোকস্তম্ভের ধর্মচক্র থেকে। এর ২৪টি কাঁটা ধর্ম, ন্যায়, অগ্রগতি, দায়িত্বশীল শাসন এবং নিরন্তর এগিয়ে চলার প্রতীক।

অন্যদিকে পতাকার তিন রং গেরুয়া সাহস, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থতার; সাদা শান্তি, সত্য ও সততার; আর সবুজ সমৃদ্ধি, বৃদ্ধি ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রতীক।

লালকেল্লায় বদল স্বাধীনতা দিবসের রীতি, এ বার থাকছে বিশেষ আয়োজন

পতাকা উত্তোলন এবং সংরক্ষণের কিছু নিয়মও রয়েছে

  • ভারতের সংবিধানে পতাকার নকশার প্রযুক্তিগত বিবরণ নেই। তবে ৫১এ(ক) অনুচ্ছেদে জাতীয় পতাকাকে সম্মান করা নাগরিকের মৌলিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। পতাকার ব্যবহার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রয়েছে Flag Code of India, 2002, Emblems and Names (Prevention of Improper Use) Act, 1950 এবং Prevention of Insults to National Honour Act, 1971।
  • পতাকার দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার অনুপাত ৩:২। সাধারণত তিনটি সমান অংশ থাকে এবং মাঝের সাদা অংশে ২৪ কাঁটার অশোকচক্র থাকে। BIS-এর নির্ধারিত মাপ ও রঙের মানও মেনে চলতে হয়।
  • আগে জাতীয় পতাকা মূলত হাতে কাটা ও হাতে বোনা খাদি দিয়ে তৈরি হত। ২০২২ সালের সংশোধনের পর মেশিনে তৈরি পতাকা এবং পলিয়েস্টার, তুলো, উল, সিল্কয়ের পতাকাও ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
  • তবে পতাকা মাটিতে বা জলে ছোঁয়ানো, সাজসজ্জা বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
  • অন্য পতাকার সঙ্গে থাকলে তিরঙ্গাকে সর্বোচ্চ সম্মানের অবস্থানে রাখতে হবে।
  • ছেঁড়া বা নোংরা পতাকাও মর্যাদার সঙ্গে সরিয়ে ফেলতে হয়। অবমাননা করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। (Indian National Flag Evaluation)

সরকারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অধীনে শুরু হওয়া ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের প্রতিটি ঘর, কর্মস্থল ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে তিরঙ্গার আবেগের সম্পর্ক আরও গভীর করা। যে তিরঙ্গা আমাদের নতুন পরিচয় দিল, বিশ্বের দরবারে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে তার জন্য এই বিশেষ সম্মানটুকু তো প্রাপ্য। (Indian National Flag Evaluation)

1000444429

তাই ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে যুব বিষয়ক দফতর MY Bharat Portal-এ ‘National Flag Quiz 2026’-ও চালু করেছে। অর্থাৎ স্বাধীনতার ৭৯ বছরের পথ পেরিয়েও তিরঙ্গা শুধু একটি পতাকা নয়-দেশের স্বাধীনতা, ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের জীবন্ত প্রতীক।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

2 thoughts on “স্বাধীনতার আগে থেকে জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ, কীভাবে তৈরি হলো আজকের তিরঙ্গা?”

Leave a Comment