ডঃ দীপক কুমার দাস
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক বাড়ছে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, বাড়ছে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ফাস্ট ফুড যেন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন, চিপস, সফট ড্রিঙ্কস, প্রসেসড মাংস এবং প্যাকেটজাত খাবার শিশু থেকে শুরু করে বড়দের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু এই সুস্বাদু খাবারের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক নীরব বিপদ—ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, স্থূলতা, ডায়াবিটিস এবং অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। (Heart Attack)
ফাস্ট ফুডে কেন বাড়ে খারাপ কোলেস্টেরল?
ফাস্ট ফুডে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ থাকে। এসব উপাদান শরীরে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে ধমনীর ভেতরে চর্বি জমতে শুরু করে, যাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। এতে হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং একসময় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। (Heart Attack)
শিশুদের মধ্যেও বাড়ছে বিপদ
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আজকাল অনেক বাবা-মা সন্তানদের প্রায় প্রতিদিনই ফাস্ট ফুড খেতে দিচ্ছেন। এর ফলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ফ্যাটি লিভার এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধি আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব থেকেই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি
শুধু শিশু নয়, তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও নিয়মিত ফাস্ট ফুড খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে। আগে যেখানে হার্ট অ্যাটাককে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের রোগ বলে মনে করা হতো, এখন ২৫–৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও এটি ক্রমশ বেশি দেখা যাচ্ছে। (Heart Attack)
কীভাবে এই ঝুঁকি কমানো যায়?
- সপ্তাহে একবারের বেশি ফাস্ট ফুড না খাওয়াই ভালো
- শিশুদের টিফিনে ফল, দই, বাদাম, সেদ্ধ ডিম বা বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার দিন
- প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন
- কোমল পানীয়ের পরিবর্তে জল, ডাবের জল বা লেবুর শরবত পান করুন
- বছরে অন্তত একবার রক্তের কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন
- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন (Heart Attack)
হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করে হয় না
মনে রাখবেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করে হয় না। বছরের পর বছর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে। তাই আজ থেকেই সচেতন হোন। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং পরিবারের সবাইকে সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করুন।
সুস্থ হৃদয়ই সুস্থ জীবনের ভিত্তি
সুস্থ হৃদয়ই সুস্থ জীবনের ভিত্তি। আজকের সচেতন সিদ্ধান্তই আগামী দিনের হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে পারে। (Heart Attack)
আরও পড়ুন :- আপনার হার্ট দুর্বল হচ্ছে না তো?













Hi, just required you to know I he added your site to my Google bookmarks due to your layout. But seriously, I believe your internet site has 1 in the freshest theme I??ve came across. It extremely helps make reading your blog significantly easier.