সবুজ-মেরুনের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেই মোহনবাগান ক্লাবের সহ-সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে নেওয়া হয়েছে এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে এ বিষয়ে কোনও কথা বলা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পদ ছাড়লেও সদস্য ও সমর্থক হিসেবে তাঁর মোহনবাগানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকবে।
রবিবার রাতে করা পোস্টে (Kunal Ghosh) কুণাল ঘোষ লিখেছেন, দু’দফায় দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করেন। পোস্টে তিনি দু’টি ছবিও ভাগ করে নেন— একটি ১৯৮৫ সালের, যেখানে মোহনবাগান মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অন্যটি ২০২৫ সালে স্কটল্যান্ডে তোলা, যেখানে ‘মোহনবাগান ভক্ত’ লেখা টি-শার্ট পরে দেখা যায় তাঁকে।
ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্তকে পাঠানো ইস্তফাপত্রও প্রকাশ্যে এনেছেন কুণাল। সেখানে তিনি লিখেছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর জীবন জুড়ে মোহনবাগান। ক্লাবের লনেই তাঁর হাঁটা শেখা, কৈশোর কেটেছে মাঠের গ্যালারিতে। এমনকি একসময় ক্লাব সাসপেনশনের মুখে পড়লে সমর্থকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে দিল্লিতে এআইএফএফ দপ্তরে বৈঠকে যাওয়ার স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেছেন।

(Kunal Ghosh) চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন, সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়ে তিনি গঠনমূলক কাজে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ চালু হওয়ায় সভাপতি দেবাশিস দত্তকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। তবে বর্তমানে “সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই” তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সভাপতি দেবাশিস দত্ত, সচিব সৃঞ্জয় বোস এবং কর্মসমিতির নেতৃত্বে ক্লাবের আরও এগিয়ে যাওয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপেই পাঠানো বার্তাকে চূড়ান্ত ইস্তফাপত্র হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধও করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি সাম্প্রতিক সময়ে কুণাল ঘোষের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগ। চলতি মাসের ১২ মে (Kunal Ghosh) তিনি সংবাদ প্রতিদিনের কনসাল্টিং এডিটর পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সেই জটিলতা এড়াতেই তিনি সম্পাদকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর এবার প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও আবেগের জায়গা থেকে জানিয়ে দিলেন— কুণাল ঘোষ এখনও মোহনবাগানেই আছেন, শুধু পদে নন, সমর্থক হিসেবে।
উচ্চতাই বদলে দিয়েছে পথ, কেমন ছিল ইস্টবেঙ্গলের চ্যাম্পিয়ন গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলের যাত্রা?












2 thoughts on “হঠাৎ কেন মোহনবাগানের সহ-সভাপতি পদ ছাড়লেন কুণাল ঘোষ? নিজেই জানালেন কারণ”