(India vs Pakistan) ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা আবেগ। গ্যালারিতে, টিভির সামনে কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে—দুই দেশের সমর্থকদের হৃদস্পন্দন যেন একটু বেশি দ্রুত চলে। নারী টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চেও সেই আবেগের ব্যতিক্রম হল না। এজবাস্টনের আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় চাপ, উত্তেজনা আর প্রত্যাশার লড়াইয়ে শেষ হাসিটা হাসল ভারত। স্মৃতি মন্ধানার ব্যাট, দীপ্তি শর্মার জাদুকরী স্পেল এবং শ্রীচরণীর স্পিনের ফাঁদে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল হরমনপ্রীত কৌরের দল।
(India vs Pakistan) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে শুরুটা মোটেই স্বস্তিদায়ক ছিল না। ম্যাচের প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করেছিলেন শেফালি ভার্মা। কিন্তু সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথম ওভারেই ৬ রান করে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর চার ওভারের মধ্যে আরেক ধাক্কা। জেমিমা রদ্রিগেজ মাত্র ১ রান করে তাসমিয়া রুবাবের বলে নাতালিয়া পারভেজের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে ভারতের স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে। ১০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৬৭/২।

সেই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন স্মৃতি মন্ধানা ও অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। দু’জন ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন, তারপর বাড়াতে থাকেন রান তোলার গতি। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে ৯১ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাঁরা।
বিশেষ করে স্মৃতি ছিলেন অনবদ্য। শুরুতে ধৈর্য ধরে খেললেও পরে একের পর এক চমৎকার ড্রাইভ, কভার শট ও আক্রমণাত্মক স্ট্রোকে পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়ান। মাত্র ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৬৮ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কা।
হরমনপ্রীতও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে ৩৬ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। তবে ১৩.৫ ওভারে রামিন শামীমের বলে ফাতিমা সানার হাতে ধরা পড়ে ফেরেন মন্ধানা। তার কিছুক্ষণ পরই মাত্র ১ রান করে স্টাম্পড হন ভারতী ফুলমালি।

১৬.২ ওভারে হরমনপ্রীতের বিদায়ে ভারত ১২৩/৫ হয়ে পড়লেও শেষের ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। ক্রিজে নেমেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। বিশেষ করে ১৯তম ওভারে তাসমিয়া রুবাবকে একটা চার, একটা ছক্কা ও আরও দুটো চার মেরে ম্যাচের গতি পুরোপুরি ভারতের দিকে নিয়ে আসেন। মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রিচা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৭০/৬।
পাকিস্তানের হয়ে সাদিয়া ইকবাল ও ফাতিমা সানা দুটি করে উইকেট নেন। রামিন শামীম ও তাসমিয়া রুবাব পান একটি করে সাফল্য।
(India vs Pakistan) ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। মুনিবা আলি ও গুল ফিরোজার ওপেনিং জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে। পাওয়ারপ্লে শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫২/১।
কিন্তু এরপরই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ভারতের স্পিনাররা।

প্রথম আঘাত হানেন দীপ্তি শর্মা। ১২ রান করা গুল ফিরোজাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ভিত নাড়িয়ে দেন। পরের ওভারেই ১২ রান করা আয়েশা জাফরও দীপ্তির শিকার হন। এরপর শ্রীচরণীর ঘূর্ণিতে দ্রুত ভাঙতে থাকে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
সায়রা জাবিনকে ফেরানোর পর নাতালিয়া পারভেজকেও আউট করেন শ্রীচরণী। প্রতি ওভারে বাড়তে থাকা প্রয়োজনীয় রানরেট, ডট বলের চাপ এবং মাঝেমধ্যে উইকেট—এই তিনের চাপে ধীরে ধীরে (India vs Pakistan) ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে পাকিস্তান। ভারতীয় ফিল্ডারদের তৎপরতা ও আক্রমণাত্মক বডি ল্যাঙ্গুয়েজও পাকিস্তানের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করে।
মুনিবা আলি একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে গেলেও ৪১ রান করে রান আউট হন তিনি। সেটাই কার্যত পাকিস্তানের শেষ আশা নিভিয়ে দেয়।অধিনায়ক ফাতিমা সানা শূন্য রানে শেফালি ভার্মার শিকার হন। এরপর রামিন শামীমকে অসাধারণ ক্যাচে ফেরান শ্রেয়াঙ্কা পাতিল। পাকিস্তান তখন পুরোপুরি চাপে।
শেষ ধাক্কাটা দেন দীপ্তি শর্মা। ১৬তম ওভারে আলিয়া রিয়াজ, তাসমিয়া রুবাব ও নাশরা সন্ধুকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। তাঁর ঘূর্ণির সামনে পাকিস্তানের ব্যাটিং একেবারেই অসহায় দেখায়।

দীপ্তি শর্মা ৫ উইকেট নিয়ে (India vs Pakistan) ম্যাচের সেরা পারফরমার হন। অন্যদিকে শ্রীচরণী ৩ উইকেট তুলে পাকিস্তানের মাঝের সারিকে ধসিয়ে দেন। এজবাস্টনের মাঠে তখন নীল জার্সিধারীদের উল্লাস
২০ ওভারের আগেই পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায় ১০৬ রানে। ফলে ৬৪ রানের বড় জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে ভারত।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের এই জয় শুধু দুই পয়েন্টের নয়, আত্মবিশ্বাসেরও। চাপের ম্যাচে ব্যাট হাতে মন্ধানার দায়িত্বশীলতা, রিচার বিস্ফোরক ফিনিশিং এবং বল হাতে দীপ্তি-শ্রীচরণীর নিখুঁত পরিকল্পনা ভারতীয় সমর্থকদের মনে নতুন স্বপ্ন জাগিয়ে দিল।
বিশ্বকাপের পথ এখনও দীর্ঘ। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন কর্তৃত্বপূর্ণ জয় ভারতীয় শিবিরকে স্পষ্ট বার্তা দিল—এই দল শুধু অংশ নিতে আসেনি, ট্রফির জন্যই লড়তে এসেছে।
সিরিজের মাঝে বড় ঘোষণা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় কেন উইলিয়ামসনের












